আজকের শিশু

0

মেঘনা নদীর শ্রোতে শুধু নৌকা ট্রলার ভাসে না, ভাসতে দেখা যায় কোমলমতী শিশুদের। নদীর চকচকে ঢেউয়ের সাথে মিশে যায় তাদের হাসি। উত্তাল, গভীর নদীর বুকে এইসব শিশুদের স্বপ্নগুলো ভাসছে প্রতিনিয়ত। দেখা মেল ১২-১৩ বছর বয়সের এমন অনেক শিশুর। যারা নৌকা কিংবা ট্রলারে করে মাছ ধরতে পাড়ি জমায় মেঘনা’র বুকে। তাদের স্বপ্নটাই এমন। মাছ ধরে জীবীকা নির্বাহ করে তারা। কথা হয় এমনি দু’জন শিশুর সাথে। বসে বসে জাল বুনছিলো একজন শিশু, নাম ইব্রাহিম। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, অন্য কোনো স্বপ্ন নেই তার। বাবার সাথে মাছ ধরতেই ভালো লাগে। অকুতভয় এই শিশুটি মাছ ধরতে ধরতে জয় করতে চায় সাগর-নদী।

কথা হয় আরো একজন শিশুর সাথে, নাম শাহিন, বয়স ১৪ বছর। ১০ বছর বয়স থেকে নদীতে মাছ ধরে সে। কেনো এত অল্প বয়সে মাছ ধরছে সে? প্রশ্নটি করতেই দু’চোখ বেয়ে জল পড়তে শুরু করে শাহিনের। বাবা মারা গেছে ৫ বছর আগে। তাই মা’কে নিয়ে দু’বেলা দু’মুঠো খেয়ে-পরে বাঁচতে তার মামাদের সাথে মাছ ধরতে নদীতে যায় শাহিন। এ থেকে সপ্তহে ৫০০-৭০০ টাকা পায়। আর সে টাকা দিয়েই চলে দুই মা-ছেলের সংসার। পড়ালেখা করার অনেক ইচ্ছা থাকলেও চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর বাস্তবতা তাকে নিয়ে চলেছে সাগর-নদীর বুকে।
জেলে পল্লীর আরো অনেক শিশুর জীবন ইব্রাহিম এবং শাহিনের মত। ইচ্ছা, অনিচ্ছা কিংবা বাস্তবতায় নদীর পাড়ের শিশুদের স্বপ্নগুলো ভেসে বেড়ায় নৌকা বা ট্রলারে।

অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দারিদ্রতা এবং অভাবের তাড়নায় স্বামী-সন্তান মিলে নদীতে যায় মাছ ধরতে। বছরের কিছু নির্দিষ্ট সময়ে মাছ বেশি পাওয়া যায়, তাই সে সময়ে মাছ ধরে যা আয় হয় তা দিয়ে সারা বছর খুব কষ্ট করে চলতে হয় তাদের। তাই সন্তানদের পড়ালেখার স্বপ্ন দেখেন না অনেক বাবা-মা। এমনি করেই নদী পাড়ের জেলে পল্লীর শিশুরা বেড়ে উঠছে, বেড়ে উঠছে তাদের অনিশ্চিত স্বপ্ন-ভবিষ্যৎ।

এমন সব গল্প নিয়েই প্রচারিত হয় আমাদের সাপ্তাহিক আয়োজন ‘আজকের শিশু’। শুনুন প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায়।
শুধুমাত্র রেডিও মেঘনা ৯৯.০ এফএম-এ।

Share.

Leave A Reply