আজকের শিশু

0

অভাবের কারণে আমাদের শিশুরা জড়িয়ে পড়ছে হাজারও শ্রমে। তারওপর যদি সঠিকভাবে কাজটি করতে না পারে তাহলে মনিব তাদের নানা কটু কথা শোনান; এই গাল-মন্দের হাত থেকে তাদের বাবা-মাও বাদ পড়ছে না। এদিকে শিশু অধিকারের বিষয়টি তাদের জন্য কোনভাবেই খাটে না। বরং শিশু বলে যত বেশি খাটানো যায় ততই লাভ যেন। এভাবেই নানা বঞ্চনা আর অধিকারহীনতার মধ্যে বেড়ে উঠছে আমাদের কর্মজীবী শিশুরা।

আমাদের সাপ্তাহিক আয়োজন “আজকের শিশু” তে আমরা মূলত সেসব শিশুদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরি। আমাদের এবারের শিশু ১৩ বছর বয়সের রাকিব। রাকিবের লেখাপড়া করতে ভালো লাগে না। তাই সে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সদূর চরফ্যাশন এসে রাজমিস্ত্রির কাজ করছে। যদিও তার বাবা-মা তাকে লেখাপড়া করাতে চেয়েছিল, কিন্তু সে করেনি। এছাড়াও রাকিব জানায়, কাজ করে যে টাকা সে পায় তা বাড়িতে বাবা-মার কাছে পাঠিয়ে দেয়। যা দিয়ে তাদের সংসারের কিছুটা ব্যয় বহনের সুযোগ পায়। রাকিবের মালিক আমাদের বলেন, রাকিব যদি কাজ করতে না পারে কিংবা অসুস্থ থাকে তাহলে তাকে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য ছুটি দেওয়া হয়। এছাড়া তুলনামূলক হালকা কাজ দেওয়া হয়। রাকিবকে দৈনিক ৩০০ টাকা হাত খরচ ছাড়াও মাস শেষে আরো কিছু টাকা দেন।

আমরা আরো কথা বলি ১২ বছর বয়সের সৌরভের সাথে। সে বলে, তাকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়িয়ে তার বাবা তাকে কাপড়ের দোকানের কাজে লাগিয়ে দেয়। সৌরভের পড়ার ইচ্ছা থাকলেও বাবার অসচেতনতার কারণে পড়তে পারছে না। তাই সে ঠিক করেছে বাবা পড়াশোনা না করালেও নিজের চেষ্টায় স্কুলে ভর্তি হবে। কাজ করে নিজের পড়াশুনার খরচ চালাবে বলে সে দোকানের কাজে যুক্ত হয়েছে।

এমন সব বঞ্চনা আর অধিকারহীনতার জীবনগাঁথা নিয়ে আমাদের ‘আজকের শিশু’র পর্বগুলো এগিয়ে যায়। আমরা চাই এই শিশুদের সুুন্দর শৈশব হোক। তারা পড়াশোনায় যুক্ত হোক। সেজন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয়েছে ২ নভেম্বর (শুক্রবার) সন্ধ্যা ৬.০০টায় শুধুমাত্র রেডিও মেঘনা ৯৯.০ এফএম এ।
উপস্থাপনা; খাদিজাতুল মাওয়া
প্রযোজনা: নিশি মনি

Share.

Leave A Reply