আজ বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ রেডিও মেঘনার কলাকুশলী ও স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য জেন্ডার সংবেদনশীলতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রাম আদালত বিষয়ক এক ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ওরিয়েন্টেশনে উপস্থিত ছিলেন বিসিআরএ ফোকাল রাব্বি রায়হান গল্প, ইউএনডিপি এর উপজেলা সমন্বয়কারী রিয়াজ মোরশেদ, কোস্ট ফাউন্ডেশনের আঞ্চলিক টিম লিডার রাশিদা বেগমসহ রেডিও মেঘনার কলাকুশলী ও স্বেচ্ছাসেবকরা।
‎ওরিয়েন্টেশনে গ্রাম আদালতের সেবা, কার্যক্রম ও এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এসময় বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য ও দ্রুত বিচার পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যম, বিশেষ করে কমিউনিটি রেডিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে কতিপয় ফৌজদারী ও দেওয়ানী বিরোধের সহজ ও দ্রুত নিস্পত্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত গঠিত হয়। গ্রাম আদালত অনধিক ৩ লক্ষ টাকা মূল্যেমানের ফৌজদারী ও দেওয়ানী নিস্পত্তি করতে পারে। গ্রাম আদালতের আইনজীবি নিয়োগের বিধান নেই। গ্রাম আদালতে অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে এবং অতি সহজে বিরোধ নিস্পত্তির সুযোগ রয়েছে। উভয়েই ( আবেদনকারী ও প্রতিবাদী) প্রতিনিধি মনোনয়নে সমান সুযোগ পাবে। এখানে সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিস্পত্তি হয় ফলে দন্দ কমে শান্তিতে থাকতে পারে। এখানে ফৌজদারী মামলা করতে ১০ টাকা ফি এবং দেওয়ানী ২০ টাকা ফি লাগে। প্রতিবাদী/বিবাদী যদি সমন গ্রহন না করে তাহলে ১০০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। এবং আবেদনকারী/বাদী যদি মিথ্যা মামলা করেন তাহলে ৫০০০/- জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে।
দেওয়ানী ফৌজদারি যেকোন বিরোধ ৯০ দিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি করতে হবে। প্রাকৃতিক ও রাষ্ট্রীয় দুর্যোগের কারণে ১২০ দিন।
ফৌজদারী বিরোধ গুলো হলো চুরি,দাঙ্গা, প্রতারণা, ঝগড়া/বিবেধ, কলহ/মারামারি, আত্মসাৎ, ভয়ভীতি, কোন নারীর শালীনতাকে অমর্যাদা করা। দেওয়ানী বিরোধ হলো পাওয়ানা টাকা আদায় করা, স্থাবর সম্পত্তি দখল ক্ষতিপুরণ আদায় করা, স্ত্রীর ভরণপোষন আদায়, গবাদী পশু অনধিকার প্রবেশের কারনে ক্ষতিপুরন আদা করা। এছাড়াও গ্রম আদালতে যে বিরোধ গুলো নিস্পত্তি করতে পারবে না। যেমন: ধর্ষণ, খুন, অপহরণ, ডাকাতি বহুবিবাহ, তালাক, অভিভাবকত্ব, দেনমোহর, যৌতুক, নারী ওশিশু নির্যাতন, রক্তপাত, স্থাবর সম্পত্তির স্বত্বাধিকার সংক্রান্ত, দাম্পত্য সম্পক পুনরুদ্ধার সর্বপুরি ৩ লক্ষ টাকার অধিক মূল্যেমানের যে কোন বিরোধ।
ফৌজদারী মামলার ক্ষেত্রে ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে গ্রাম আদালতে মামলা করতে পারবে। দেওয়ানী মামলার ক্ষেত্রে ৬০ দিনের মধ্যে মামলা দায়ের করতে পারবে। গ্রাম আদালতের প্রধান চেয়ারম্যান সাহেব। পক্ষদ্বয়ের মনোনীত আরো দু’জন। মোট ৫ জন নিয়ে গ্রাম আদালত গঠিত হয়।