চরফ্যাশন উপজেলার পৌর শহরসহ মোট ২১টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার টিউবওয়েলে পানি না ওঠায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। টিউবওয়েলে পানি ওঠা বন্ধ হওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ। অধিকাংশ বাড়িতে টিউবওয়েল অকেজো হয়ে আছে। কিছু টিউবওয়েল থেকে পানি সংগ্রহ করা গেলেও তা এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে গিয়ে আনতে হচ্ছে।
শশীভূষন এলাকার আকলিমা বেগম বলেন, আগে টিউবওয়েল থেকে ভালো পানি উঠত। এখন একেবারেই পানি আসে না। টিউবওয়েল অনকে শক্তি প্রয়োগ করে চাপ দিলেও পানি উঠে না। এক বালতি পানির জন্য অনেক দূরে যেতে হয় বলে জানান তিনি।
হাজারিগঞ্জ ইউনিয়নের মিনারা বেগম জানান, পরিবারের প্রতিদিনের রান্না, গোসলসহ অন্যান্য প্রয়োজনে পুকুরের পানি ব্যবহার করছেন বিশিুদ্ধকরণ ছাড়া। পুকুরের পানি বিশুদ্ধ হওয়ায় নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বৃদ্ধসহ শিশু কিশোররা।
পুকুরের অনিরাপদ পানি পান বা ব্যবহারের ফলে ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়, টাইফয়েড, জন্ডিস ও চর্মরোগের মতো মারাত্মক রাগ ছড়াতে পারে বলে জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার শোভন কুমার বসাক।
তিনি বলেন, পুকুরের পানি বিশুদ্ধ করার জন্য প্রথমে ছাঁকন (পাতলা কাপড় দিয়ে ছেঁকা) ও কলসে রেখে বালি/কাঁদা নিচে জমানো প্রক্রিয়ায় ময়লা দূর করা যায়। এরপর জীবাণুমুক্ত করতে পানি অবশ্যই ১০-২০ মিনিট ফুটাতে হবে। এছাড়াও ফিটকিরি ও পানি বিশুদ্ধকরণ টেবল্যাট এর মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধ করে পানি পান করতে হবে বা ব্যবহার করতে হবে এমনটা বলেন তিনি।
চরফ্যাশন জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশল কামাল হোসেন বলেন, বর্তমানে শুষ্ক সময়ে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর প্রায় ৭০ ফুট নিচে চলে গেছে। যার প্রভাবে চরফ্যাশন পৌর এলাকা, হাজারিগঞ্জ, জাহানপুর, আমিনাবাদ, শশীভূষন, মাদ্রাজ এলাকার ৮০ শতাংশ টিউবওয়েল পানি উঠছেনা। প্রতিবছর পানির স্তর ৭০ ফুট করে নিচে নেমে যায়। বৃষ্টির মৌসুমে বৃষ্টির পানি হারভেস্টিং করা যেতে পারে। সাবমাসিবল পাম্পসহ টিউবওয়েল স্থাপন করা যেতে পারে। বিএডিসি ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তলন কমিয়ে সারফেস ওয়াটার ব্যবহার করার পরামর্শ দেন তিনি।
এছাড়াও পানি অপচয় রোধ করতে তিনি আরো বলনে, মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা ও বৃষ্টিপাত বাড়াতে সাহায্য করে গাছপালা এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রিচার্জ করে পানির সংকট স্থায়ীভাবে দূর করতে সাহায্য করবে তাই পরিবেশের রক্ষা করার জন্য গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।