শীত মৌসুমে মেঘনা নদীতে তেমন মাছ পাচ্ছেন না জেলেরা। অনেক সময় হতাশ হয়ে খালি হাতে ঘাটে ফিরতে হচ্ছে, আবার কখনো সামান্য মাছ নিয়ে ফিরলেও তা খরচ তুলতে পারছে না।
জেলেরা জানান, শীতে সাধারণত নদীতে ইলিশের উপস্থিতি কমে গেলেও পোয়া, চিংড়ি ও বাটা মাছ পাওয়া যেত। তবে চলতি মৌসুমে এসব মাছও খুব কম ধরা পড়ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ট্রলারের জ্বালানি খরচও ওঠানো সম্ভব হচ্ছে না।
তাদের অভিযোগ, মেঘনা নদীতে অবৈধ বাঁধাজাল, মশারি জাল, খরচি জাল ও চরঘেরা জাল ব্যবহার করায় ছোট প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া শীত মৌসুমে নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় বড় ইলিশের বিচরণও কমে গেছে বলে জানান জেলেরা।
সামরাজ ঘাটের জেলে আলমগীর মিস্ত্রি ও জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, ১০ থেকে ১২ জন জেলে নিয়ে একটি বড় ট্রলার গভীর নদীতে মাছ শিকারে গেলে জ্বালানি (ডিজেল) ও আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় হয়। এ খরচ উঠাতে হলে দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকার মাছ বিক্রি করতে হয়। কিন্তু নদীতে মাছের সংকট থাকায় এত টাকা খরচ করেও অনেক সময় মাছ পাওয়া যায় না। ফলে শীত মৌসুমে অনেক জেলে নদীতে নামছে না।
কনকনে শীতে বাধ্য হয়ে সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে হচ্ছে, কারণ ট্রলিংয়ের জন্য নদীতে পর্যাপ্ত মাছ আসছে না। বর্তমানে নদীতে ইলিশ, অলুপা ও পোয়া মাছ ধরা পড়লেও তা জেলেদের জন্য লাভজনক নয়।
সামরাজ মৎস্যঘাটের আড়তদার মিজানুর রহমান বলেন, আগের বছরের তুলনায় বর্তমানে মেঘনা নদীতে মাছ ধরা পড়ার পরিমাণ অনেক কম। এখন নদীতে ছোট আকারের ইলিশ, চিংড়ি ও অলুপা মাছ ধরা পড়ছে। বলা যায়, নদীতে এখন তেমন মাছ নেই। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সামনের দিনে নদীতে মাছের পরিমাণ বাড়তে পারে।
Recent Comments