সারাদেশের ন্যায় ভোলার চরফ্যাশনে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে উপজেলার ২১টি ইউনিয়নে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন সবজিখেত ও মাছের ঘের। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।
উপজেলার হাজারীগঞ্জ ১ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের সবজির খামার, আমন ধানের খেতসহ মাছের ঘের। অনেক কাঁচা রাস্তা কাদাযুক্ত হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও রোগীদের চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে। বসতবাড়ির আঙিনায় পানি জমে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। টানা বৃষ্টির কারণে ভোগান্তিতে রয়েছে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো।
কৃষাণি সালমা বেগম জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সবজিখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। একইভাবে মাছের ঘের ডুবে প্রায় ৩০ মণ মাছ পুকুর থেকে বের হয়ে গেছে। আবুল হাসেম গাজী (৭০) বলেন, টানা বৃষ্টিতে কাজ করতে না পারায় পরিবারের খরচ চালাতে বেছে নিয়েছেন ছাতা মেরামতের কাজ।
এদিকে রিকশাচালক মো. ইউসুফ বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে ঘর থেকে বের হতে পারি না। বাড়িতে গাড়ি রাখার স্থানে পানি উঠে রিকশার মোটর নষ্ট হয়ে গেছে। আজ প্রায় সাত দিন পর রিকশা নিয়ে বের হয়েছি।
 সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, “টানা ভারী বর্ষণে চরফ্যাশন উপজেলার প্রায় ২১টি ইউনিয়নে এবং ১টি পৌরসভায় ২ হাজার ৪৬০ জন কৃষকের ৩ হাজার ৬৭১টি পুকুর ও দিঘি তলিয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ২১৮ হেক্টর জলাশয় তলিয়ে গিয়ে ২৫৭ মেট্রিক টন সাদামাছ এবং ৫ লাখ ২৫ হাজারের মতো পোনামাছ ভেসে গেছে। এতে করে মৎস্য খাতে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা মৎস্য দপ্তর থেকে কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান যাতে তারা পরামর্শ পেতে মৎস্য দপ্তরে যোগাযোগ করেন।
এদিকে চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, টানা ভারী বর্ষণে চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষিজমি জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ হাজার ২১০ হেক্টর শাকসবজির জমি এবং ১৭০ হেক্টর আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির মধ্যে রয়েছে শসা, করলা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, কাঁচামরিচ, বরবটিসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজি।কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন। পানি দ্রুত নেমে গেলে অধিকাংশ ফসল পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।