চরফ্যাশনের আমিনাবাদের রুজিনা বেগম এখন অনেকেরই অনুপ্রেরণা। প্রায় ১৫ বছর আগে তার বাবা মো. শাহীন সরদার স্বপ্ন নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন একটি গবাদিপশুর খামার। চার মেয়ে ও দুই ছেলের পড়াশোনা এবং সংসারের খরচ চালাতে একসময় তিনি নতুন ব্যবসাও শুরু করেন। এতে দুটি কাজ একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে ধীরে ধীরে খামারটি প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।
ঠিক তখনই বাবার স্বপ্নের খামারের হাল ধরেন ২৬ বছর বয়সী মেয়ে রুজিনা বেগম। ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে যত্ন আর ভালোবাসায় আবারও প্রাণ ফিরিয়ে আনেন খামারে।
বর্তমানে তার খামারে রয়েছে পাঁচটি দেশি গরু ও দেশি ছাগল। প্রাকৃতিক ঘাস ও খড় দিয়েই তিনি গবাদিপশু পালন করেন। গরুর দুধ বিক্রি না করে বাছুরের বেড়ে ওঠার জন্যই মূলত তা খাওয়ানো হয়। পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে অল্প পরিমাণ দুধ রাখা হয়।
সারা বছর গবাদিপশুর বাচ্চা বিক্রি করেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন রুজিনা। আর মেয়ের এই উদ্যোগের ফলেই তার বাবাও নতুন ব্যবসা শুরু করার সুযোগ পেয়েছেন। বড় মেয়েকে অনার্স পড়িয়ে বিয়ে দিয়েছেন, অন্য সন্তানদের পড়াশোনাও চলছে।
বাবার হাতে গড়া সেই খামার আজ মেয়ের হাত ধরে শুধু টিকে নেই—বরং হয়ে উঠেছে একটি পরিবারের স্বপ্ন, স্বাবলম্বিতা আর ভালোবাসার গল্প।