বর্ষা এলেই জীবনের ছন্দ বদলে কাঠমিস্ত্রি থেকে হয়ে যান মৎস্যজীবী। সারা বছর কাঠ মিস্ত্রি কাজ করলেও বর্ষার কাজের চাপ নেমে যায় শূণ্যে। মেঘনা নদীর কাছকাছি বসবাস করায় মাছ শিকারেও দক্ষ ছোট বেলা থেকেই। যখন কাঠমিস্ত্রিরির কাজ আর পাওয়া যায় না তখনই ছুটে যান নদীতে মাছ ধরা বোটে।
বলছিলাম চরফ্যাশন বেতুয়া এলাকার মোঃ আমির হোসেনের কথা। বোটে থাকার পাশাপাশি তিনি নদীতে জাল টেনেও মাছ ধরে থাকেন। প্রতিদিন নদী থেকে পাওয়া মাছ বিক্রি করে সংসারের খরচ চালানোর চেষ্টা করেন। মাছ বিক্রি করে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই কোন মতে সংসার চালিয়ে যাচ্ছে।
তার দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসারে থাকেন। এক মেয়েও বিয়ের পর থেকে শ^শুরবাড়িতেই থাকেন। বর্তমানে সংসারে শুধু আমির হোসেন ও তার স্ত্রী। জীবনের শেষ বেলায় এসেও নিজেকে রোজগার করে খেতে হয়। ছেলেরাও নিজেদের আয় দিয়ে সংসার ঠিক মতো চালাতে পারছেনা। কারণ সন্তাদের পড়ালেখা করিয়ে ভালো কোন কাজে দিতে পারেনি। তাই আর আলাদা করে বাবা আমির হোসেনের সব খরচ বহন করতে পারে না। তবে আমির হোসেন বা তার স্ত্রী অসুস্থ হলে ছেলেরা খেয়াল রাখার চেষ্টা করেন। তাই আমির হোসেনই তাদের ছোট সংসার চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।