ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার কবির হোসেন (৫১) ফেরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। স্বল্প আয়ের এই মানুষটির জীবন চলছিল স্ত্রী-সন্তান নিয়ে। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই তার জীবনের সব হিসাব বদলে গেছে।
অটো রিকশা ও ট্রাকের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন কবির হোসেন। প্রাণে বেঁচে গেলেও হারাতে হয়েছে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরার সক্ষমতা। দুর্ঘটনায় তার ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়েছে। অন্য পায়ের পাঁচটি আঙুলও কেটে যায়। এরপর দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ মেটাতে গিয়ে সহায়-সম্বল যা ছিল, তাও হারিয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর বন্ধ হয়ে গেছে তার আয়-রোজগারের পথ। ফলে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। একসময় নিজের পরিশ্রমে সংসার চালানো কবির এখন অন্যের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে দিন কাটাচ্ছেন। কবির হোসেন বলেন, সরকারিভাবে আমার ভাতার কার্ড করা হয়েছে। কিন্তু সেই অর্থ দিয়ে নিজের চিকিৎসা ও পরিবারের খরচ চালানো সম্ভব নয়। সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে আমার জীবন সংগ্রাম কঠিন হয়ে গেছে। তবুও আমি ভিক্ষা করতে চাই না, মানুষের কাছে হাত পাততেও চাই না। কাজ করে বাঁচতে চাই।
তিনি আরও বলেন, কিছু আর্থিক সহযোগিতা পেলে একটি কৃত্রিম পা লাগাতে পারব। পাশাপাশি ছোট একটি ব্যবসা করতে পারলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারব।”
এদিকে, দুর্ঘটনায় প্রতিবন্ধিতার শিকার ব্যক্তিদের সরকারি সহায়তার বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন বলেন, বিভিন্ন দুর্ঘটনার কারণে প্রতিবন্ধিতার শিকার ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড করার সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের হুইলচেয়ার, ক্রাচসহ বিভিন্ন সহায়ক উপকরণের আওতায় আনা হয়।তিনি আরও বলেন, বিশেষ চাহিদা সম্পূর্ণ ব্যক্তিদের যেকোনো সমস্যা বা প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
Recent Comments