অসুস্থতার কারণে বিদেশ থেকে দেশে ফেরা—জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল সাইফুল ইসলামের। অন্য কোনো শ্রমঘন কাজ করতে না পারলেও থেমে থাকেননি তিনি। দৃঢ় মনোবল আর বাঁচার স্বপ্নকে সঙ্গী করে গড়ে তুলেছেন হাঁসের খামার। এখন সারাদিন হাঁসের খাবার দেওয়া, খামার পরিষ্কার রাখা আর যত্ন নেওয়াতেই ব্যস্ত সময় কাটে তার।
বলছি চরফ্যাশন উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ৫নং ওয়ার্ডের মুন্সী বাড়ির সাইফুল ইসলামের কথা। নিজের উদ্যোগে ১,০০০ হাঁস দিয়ে খামারের শুরু করেছিলেন তিনি। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে প্রায় ৭০০-এর বেশি হাঁস। হাঁসের ডিম বিক্রি করে ইতোমধ্যে দুইটি গরু কিনেছেন—এটাকেই তিনি নিজের বড় সাফল্য মনে করেন।
সাইফুল জানান, প্রতিটি হাঁসের পিছনে তার খরচ হয় প্রায় ৩০০ টাকা। আর বিক্রি করতে পারেন ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। শীত মৌসুম সামনে হওয়ায় হাঁসের বাজার আরও চাঙ্গা হবে বলে আশা করছেন তিনি। এ দামে হাঁস বিক্রি করতে পারলে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লাভ হবে—এমনটাই তার হিসাব। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ছোট পরিসরের এই খামারই এখন তার ভবিষ্যতের বড় স্বপ্ন। তিনি চান আরও বড় আকারে বাণিজ্যিকভাবে হাঁস পালন করতে।
চরফ্যাশন উপজেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাজন আলী বলেন,
“চরফ্যাশনে হাঁসের খামারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে এবং খামারিরাও ভালো লাভবান হচ্ছেন। কেউ নতুন করে হাঁসের খামার শুরু করতে চাইলে প্রাণী সম্পদ বিভাগ সবসময় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।”