চরফ্যাশন উপজেলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে জাটকা সংরক্ষণের উপর নিষেধাজ্ঞার ২৮ দিন পার হলেও সরকারি সহায়তার আওতায় আসেনি হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের মাঈনউদ্দিন ঘাট এলাকার প্রায় পাঁচশত নিবন্ধিত মৎস্যজীবী। এতে করে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
মার্চ এপ্রিল সরকার ঘোষিত অভায়শ্রম চলছে। সরকারের এই নিষেধাজ্ঞা জাটকা সংরক্ষণ এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য চর ইলিশা হতে চরপিয়াল ৯০ কিলোমিটার, ভেদুরিয়া হতে চর রুস্তম ১০০ কিলোমিটার সকল ধরনের মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এই সীমানায় কোনো মাছ আহরণ করতে জেলেরা পারবে না।
এই দু’ মাস সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় জাটকা নিধন প্রতিরোধের যে ৪ মাস অবরোধ। সেই চার মাসে ৪০ কেজি করে চাউল জেলেরা পাবে। তবে নিবন্ধিত জেলেরা এই চাউলের আওতায় এখনও আসেনি। কারণ সরকার ১০০ ভাগ বরাদ্দ দিতে পারেনি। ৪ মাসের বরাদ্দ থেকেই মার্চ এপ্রিল অভায়শ্রম অভিযানের আওতায় সুবিধাসমূহ পাবে। এর বাহিরে কোনো সরকারী বরাদ্দ নেই। জেলেদের একটি জোড়দাবী হলো অবৈধ জাল তৈরির ফ্যাক্টরি বন্ধ করা জন্য।
মাঈনউদ্দিন ঘাটে প্রায় ৫ হাজারের মতো জেলে রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে ঐ মৎস্যঘাটের ২২ জন মৎস্যজীবীর সাথে কথা বললে তারা চরম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, নিষেধাজ্ঞার ২৮দিন পার হলেও জেলে কার্ড থাকা সত্বেও কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পাইনি তারা।
জেলে মোঃ ইউনুস, মোঃ আবু খায়ের ও মোঃ হুমায়ূন মাঝিসহ আরো অনেকেই বলন, পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে নৌকা ও জাল মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছি। তাই সরকারি সহায়তা খুব দ্রুত আশা করছি।
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জনাব জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, চরফ্যাশন উপজেলায় মোট নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ৪৪ হাজার ৩শত ১১ জন। এর মধ্যে ভিজিএফ চাল পাবেন ২৪ হাজার ২শ জন জেলে পরিবার। এখনো ভিজিএফ চাল বিতরণের কাজ শুরু হয়নি। দুই একদিনের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেওয়া বলে জানান তিনি।
Recent Comments