জীবনের ৭৫টি বসন্ত পেরিয়ে গেলেও থেমে নেই আঙ্কুরা বেগমের পথচলা। বয়সের ভার শরীরে, কিন্তু সংসারের দায়িত্বে এখনো অটুট তিনি।
চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের নদীর পাড়ে বসবাস করেন আঙ্কুরা বেগম। প্রায় ১৫ বছর আগে অন্যের কাছ থেকে একটি গরু বর্গা নিয়ে শুরু করেছিলেন গবাদিপশু পালনের কাজ।
সেই গরু পালন করে পাওয়া প্রায় ৬০ হাজার টাকা দিয়ে তিনি কিনেছিলেন একটি গরু ও দুটি ছাগল। ছোট্ট সেই উদ্যোগই ধীরে ধীরে বড় হয়েছে। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ৯টি গরু ও ১২টি ছাগল।
আসন্ন কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন ৩টি গরু ও ৫টি ছাগল। এছাড়া আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে আরও তিনটি গরু বাচ্চা দেবে বলে জানান তিনি।
তবে এই সাফল্যের পথটা সহজ ছিল না। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আর নানা কষ্টের গল্প।বিশেষ করে বর্ষার সময় গবাদিপশুর খাবার সংগ্রহ করতে প্রতিদিন নদীতে যেতে হয় আঙ্কুরা বেগমকে। সকাল ৮টার দিকে ভাটার সময় নদীতে নেমে ঘাস সংগ্রহ করেন তিনি। এরপর জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করেন।
জোয়ার এলে পানির স্রোতের সঙ্গে ভেসে ভেসে ঘাস নিয়ে বাড়ি ফেরেন। প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা তাকে পানির মধ্যে থেকে এই কাজ করতে হয়।
৭৫ বছর বয়সেও কেন এত কষ্ট করে কাজ করেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আঙ্কুরা বেগমের কথা খুব সহজ, এই গরু-ছাগলই যে তার পরিবারের ভরসা।
আঙ্কুরা বেগমের স্বামী মো. রাজ্জাক ব্যাপারী একসময় মাছের ব্যবসা করতেন। বয়সের কারণে এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। তাই তিনিও স্ত্রীকে গবাদিপশু পালনের কাজে সহযোগিতা করেন।
প্রতি বছর গরু-ছাগল বিক্রি করে সংসারের প্রয়োজন মেটান তারা। শুধু সংসার চালানো নয়, এই আয়ের টাকা দিয়ে নিজেদের বসবাসের জন্য জমিও কিনেছেন।
একটি বর্গা গরু দিয়ে শুরু হয়েছিল যে পথচলা, আজ সেই পথচলা এসে দাঁড়িয়েছে ৯টি গরু আর ১২টি ছাগলের খামারে।
Recent Comments