চার সন্তান নিয়ে পূর্ব মাদ্রাজ ৭নং ওয়ার্ডে বসবাস করেন ফাতেমা বেগম (৪০)। ছোট ছেলে হাসনাইন জন্মের পর থেকে অন্য সকল শিশুর মতো বেড়ে উঠতে থাকে। তিন বছর বয়স হওয়ার পরও হাসনাইন যখন কথা বলতে পারেন না তখন থেকে মায়ের দুশ্চিন্তা যেন বাড়াতে থাকে। নিজ উপজেলায় অনেক ডাক্তার দেখানোর পরও কোন পরিবর্তন না দেখে ঢাকায় ডাক্তার দেখানোর পর জানতে পারেন হাসনাইন কথা বলতে পারবেন না (বাকপ্রতিবন্ধী)।
মা ফাতেমা বেগম দুঃখ ভরা আবেগের সাথে জানান, বাকি তিনজন ছেলে মেয়ে সুস্থ-স্বাভাবিক। তাদেরকে পড়ালেখা করিয়ে স্বপ্ন পূরণ করার চেষ্টা করছেন। প্রতিবন্ধী ভাতা দিয়েই হাসনাইনের খরচ বহন করেন। বাকপ্রতিবন্ধী হলেও পরিবারের ছোট সন্তান হিসেবে সকলের চোখের মনি ছোট্ট হাসনাইন।
চরফ্যাসন উপজেলার সমাজ সেবা অফিসার মো: মামুন হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ২০১৩ সালের আইন অনুযায়ী সূবর্ণ নাগরিক কার্ডের আওতায় আনা হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুবর্ণ নাগরিক কার্ড বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত একটি বিশেষ পরিচয় পত্র যা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সুবিধা নিশ্চিত করে। এই কার্ডের মাধ্যমে কার্ডধারীরা মাসিক প্রতিবন্ধী ভাতা, বিশেষ শিক্ষা, কর্মসংস্থানে কোটা, চিকিৎসা, এবং বিমান ভ্রমণের বিশেষ সুবিধাসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকেন। প্রতি বছর জুন থেকে শুরু করে জুলাই পর্যন্ত যে উপজেলায় যত জন ব্যাক্তি সুবর্ন নাগরিক কার্ডের অন্তরভূক্ত হবে সে উপজেলায় তত পরিমানে ভাতা দেওয়া হয়।
রেডিও মেঘনার সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান “ধীমান” শুনুন প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার সকাল ০৮:২৫ মিনিটে।