চরফ্যাশন উপজেলায় হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত গত সাত মাসে উপজেলায় মোট ১ হাজার ১১ জনের হাম আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষ হামসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৯ জন হাম আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ৯ বছর বয়সী শিশু ফাতেমার বাবা জানান, গত আট দিন ধরে জ্বর, কাশি ও শরীরে লালচে ফুসকুড়িতে ভুগছিল ফাতেমা। গতকাল রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসা নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাকলুকুর রহমান জানান, চলতি বছরের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত উপজেলায় মোট ১ হাজার ১১ জন হাম আক্রান্ত রোগীর তথ্য তাঁদের কাছে রয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। তাই শিশুদের হামের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিতে হবে। জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে হবে, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে। পাশাপাশি শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
হাম প্রতিরোধে সচেতনতা, সময়মতো টিকাদান এবং আক্রান্ত রোগীর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।