আগামীকাল ১০ আগস্ট প্রকাশিত হবে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর ফলাফল। ফলাফলকে ঘিরে সারাদেশের মতো ভোলার চরফ্যাশনের বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসায় বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা। কেউ শেষ মুহূর্তে দোয়া করছেন, কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে করছেন ফলাফল নিয়ে আলোচনা। কারও চোখে এ-প্লাস পাওয়ার স্বপ্ন, আবার কারও মনে কাজ করছে ফলাফল নিয়ে দুশ্চিন্তা।
চরফ্যাশন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিনিতা বলেন, ফলাফল প্রকাশ নিয়ে কিছুটা ভয় ও দুশ্চিন্তা কাজ করছে। তবে নিজের যোগ্যতায় পরীক্ষা দিয়েছেন এবং পরীক্ষা মোটামুটি ভালো হয়েছে বলে ভালো ফলাফলের আশা করছেন।
আরেক শিক্ষার্থী অহনা বলেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলাফল হবে কি না, তা নিয়ে ভয় লাগছে। ভালো ফলাফল হলে ঢাকায় ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করার স্বপ্ন রয়েছে তার।
কুলসুমবাগ মোতালেব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আরাফাতও ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা করছেন। একই প্রত্যাশা তার পরিবারেরও। তার দাদি বলেন, ফলাফল খারাপ হলেও যেন নাতি ভেঙে না পড়ে—সবসময় তাকে সাহস দেন তিনি।
অভিভাবক লাকি বলেন, সারাবছর মেয়েকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করিয়েছেন। এখন শুধু অপেক্ষা, ফলাফল কী হয়। পরীক্ষার সময় নতুন পদ্ধতি ও সিসি ক্যামেরা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও নিজের যোগ্যতায় পরীক্ষা দিয়েছে তার মেয়ে।
চরফ্যাশন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. শামসুদ্দিন টিপু জানান, এ বছর বিদ্যালয় থেকে ১২৭ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। দীর্ঘ সময় পর পরীক্ষার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসায় শুরুতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা ভয় থাকলেও পরবর্তীতে তারা সুন্দরভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের ব্যাপারে আশাবাদী।
তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, সন্তানের ফলাফল আশানুরূপ না হলেও হতাশ হওয়া যাবে না। একটি ফলাফল কখনোই জীবনের শেষ কথা নয়। কেউ অকৃতকার্য হলেও পরবর্তী সময়ে আরও ভালোভাবে চেষ্টা করে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
ফলাফল দিয়ে কখনোই একজন মানুষের মেধা বা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যায় না। তাই ফলাফল যেমনই হোক, সন্তানকে বুঝুন, তার পাশে থাকুন। কারণ সন্তানের সবচেয়ে বড় শক্তি তার পরিবার।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সকল শিক্ষার্থীর জন্য রইল আন্তরিক দোয়া ও শুভকামনা।