জেলে পল্লীগুলোতে দারিদ্র্য ও জীবিকার অনিশ্চয়তার কারণে অনেক শিশুর শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মন্দা মৌসুমে জেলেদের আয় কমে গেলে পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খেতে হয়। ফলে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
চরফ্যাশন বেরি ভাঙা মোহাম্মদপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে পরিবারের গৃহিণী তাসলিমা বেগম জানান, অভাবের কারণে তাঁর বড় ছেলেকে পড়াশোনা করাতে পারেননি। বর্তমানে সে জেলে পেশায় যুক্ত। অন্যদিকে তাঁর মেঝো ছেলে ছোটবেলা থেকেই কাজ করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালিয়েছে।
সামরাজ এলাকার মো. সোহেল বলেন, পরিবারের দারিদ্র্যের কারণে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। মাত্র ১২ বছর বয়স থেকেই বাবার সঙ্গে নদীতে মাছ ধরতে শুরু করেন। এখন জীবিকার প্রয়োজনে ঝড়-তুফানের মধ্যেও নদীতে মাছ ধরতে যেতে হয়।
বেতুয়া পুরান সুইজ বেড়ির পাড় এলাকার ১২ বছরের জুনাইদও দ্বিতীয় শ্রেণির পর পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। বাবার মাছ ধরার আয় দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন হওয়ায় তার পড়াশোনার খরচ বহন করা সম্ভব হয়নি। মাঝে মাঝে সেও নদীতে মাছ ধরতে যায়।
২০৯ নম্বর পূর্ব মিয়াজানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দারিদ্র্য ও অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে জেলে পরিবারের শিশুদের ঝরে পড়ার হার তুলনামূলক বেশি। আর্থিক সংকটে অনেক ছেলে শিশু মাছ ধরার কাজে যুক্ত হয় এবং মেয়েরা বাল্যবিয়ের শিকার হয় অথবা কাজের সন্ধানে শহরমুখী হয়।
জেলে পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিশেষ উপবৃত্তি, বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ ও খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন করে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
Recent Comments