উপকূলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জেলে সম্প্রদায়ের জীবিকা নিরাপদ করতে ওয়ার্ল্ডফিশের “সুস্থ সাগর প্রকল্প” এর আওতায় গত ১০ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত চরফ্যাশন কোস্ট ফাউন্ডেশনের ট্রেনিং সেন্টারে ৩ দিনব্যাপী এক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় অংশ নেন মনপুরা, চর কুকরি-মুকরি ও কুয়াকাটা অঞ্চলের ১২ জন নারী কমিউনিটি ভলান্টিয়ার এবং ৩ জন পুরুষ ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটরসহ মোট ১৫ জন প্রশিক্ষণার্থী। আজ এই কর্মশালার সমাপনী দিন।
ওয়ার্ল্ডফিশ প্রকল্পের সিনিয়র পুষ্টিবিদ সামিউল ইসলাম বলেন, “সুস্থ সাগর প্রকল্পটি ব্লু-অ্যাকশন প্রকল্পের সহায়তায় ২০২৫ সাল থেকে ২০৩০ সাল মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটি ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো জীববৈচিত্র্য রক্ষা, সামুদ্রিক মাছ, প্রবাল, কচ্ছপ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা করা; জেলে সম্প্রদায়কে বিকল্প আয়ের পথ দেখানো এবং টেকসই মাছ ধরার প্রশিক্ষণ দেওয়া। এছাড়া উপকূলীয় মানুষকে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুত করা এবং তরুণ ও নারীদের ‘সুস্থ সাগরের দূত’ হিসেবে গড়ে তোলা, যেন তারাই নিজ এলাকায় সচেতনতা ছড়াতে পারে।
প্রশিক্ষণার্থী রুবিনা ও আরিফা বলেন, “সুস্থ সাগর প্রকল্পের এই প্রশিক্ষণ আমাদের জন্য খুবই সময়োপযোগী একটি প্রশিক্ষণ ছিল। আমরা নিজ নিজ কর্মএলাকায় গিয়ে জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল রক্ষা করার পাশাপাশি জেলে সম্প্রদায়ের বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে। ওয়ার্ল্ডফিশ প্রকল্পের এ ধরনের কর্মশালা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। পরবর্তীতে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকায় মৎস্যজীবী পরিবারের নারীদের জন্য আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ, ব্যবসা উন্নয়নে মৌলিক শিক্ষা, পুষ্টিবিষয়ক এবং সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা সভা চলমান থাকবে।” কর্মশালা শেষে সবাই “সুস্থ সাগরের শপথ” গ্রহণ করেন এবং আজকের এই সমাপনী দিনে সনদ বিতরণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ শেষ হয়।
Recent Comments