স্বামীর কৃষি কাজরে আয় দিয়ে আট জনের সংসার ভালোই চলতো। হঠাৎ একদিন স্ট্রোক করে মারা গেলেন পারুল বেগমের স্বামী। তারপর থেকে আজ প্রায় ১০ বছর বাঁশের তৈরি আসবাপত্র হয়ে উঠেছে সংসার চালানোর একমাত্র মাধ্যম। ছোট বেলায় শেখা কাজটি চার মেয়ে ও দুই ছেলের পড়া ও মুখে খাবার জোগানের মূখ্য হাতিয়ার এখন।
জিন্নাগড় ০৭ নং ওয়ার্ডের পারুল বেগম বলছিলেন একা হাতে ১০ বছর সংসার চালানোর কথা। বাঁশের মোড়া, চালনি, কুলা, ঝুড়িসহ বিভিন্ন ধরণের তৈজসপত্র তৈরি করেন। প্রথমদিকে বাড়ির আশপাশে বিক্রি করতেন। বাঁশের তৈরি আসবাপত্রের চাহিদা বেশি থাকায় কাজে সন্তানরাও অনেক সাহায্য করে। প্রতি সপ্তাহে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকার মতো বাশেঁর তৈরি আসবাপত্র বিক্রি করে থাকেন। এ কাজে আরো প্রয়োজন হয় নারকেল পাতার ও সুতা।
চার মেয়েকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করিয়ে বিয়ে দিয়েছেন এবং বড় ছেলে বর্তমানে ঢাকায় চাকরি করেন। ছোট ছেলে অনার্স ১ম বর্ষে পড়াশুনা করছেন পাশাপাশি মায়ের এ কাজে সহযোগিতা করেন।
পারুল বেগম আরও বলেন, আজ দশ বছর ধরে এ কাজ করে সন্তানদের মানুষ করার আপ্রান চেষ্টা করেছি। মোটামুটি পাঁচ সন্তানের জন্য একটা ব্যবস্থা হয়েছে। ছোট ছেলেটাকে ভালোভাবে পড়াশুনা শেষ করে সরকারি চাকরি করবে এটাই তার আশা।
পারুল বেগম বলেন, কখনো ভাবিনি সাধারন বাঁশ ও বেত দিয়ে এতো বড় সংসার চালাতে পারবো। ইচ্ছার চেষ্টা থাকলে সবই সম্ভব।
রেডিও মেঘনার সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান “সফলতার গল্প”। আয়োজনটি শুনতে পান প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার সকাল ০৮টা ২৫ মিনিটে। শুধুমাত্র রেডিও মেঘনা ৯৯.০ এফএম এ।
Recent Comments